জার্মানীতে আমাদের স্টাডি ট্রিপের মূল প্রতিপাদ্য ছিল Diversity and Cohabitation of Religions in Germany। জার্মানীতে ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যার বিভাজন নিম্নরূপ: ধর্মহীন ৩৫%, ক্যাথলিক ২৮%, প্রোটেস্ট্যান্ট ২৭%, মুসলিম ৫% অন্যান্য ৫%। অর্থাৎ ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যন্ট খ্রিস্টানদেরকে ভিন্ন গ্রুপ হিসেবে বিবেচনা করা হলে জার্মানীতে ধর্মহীন সম্প্রদায় হবে সংখ্যাগুরু।বার্লিনের পরিসংখ্যান আরো একপেশে।

এ শহরে প্রায় ৬৫% মানুষ ধর্মহীন। আমাদের সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের (ধর্মহীন সম্প্রদায় ব্যতীত) সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। তো জার্মানীতে ধর্মহীন মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন এনলাইটমেন্টের কারণে মানুষ ধর্মের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। কারণ রাজা ও যাজকশ্রেণির বিরুদ্ধেই এনলাইটমেন্ট শুরু হয়েছিল ইউরোপে। অনেকে মনে করেন, কম্যুনিস্ট শাসনের প্রভাবেই জার্মানীতে ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এ বক্তব্যের কিছুটা সত্যতা পাওয়া যায় এই তথ্যে: ধর্মহীন মানুষের ঘনত্ব সাবেক পূর্ব জার্মানীতেই (সমাজতান্ত্রিক) বেশি। তাছাড়া প্রায় প্রত্যেক যাজক আমাদেরকে পূর্ব জার্মানীর যুগে তাদের দুরবস্থা এবং সরকারের অবহেলা ও নিষ্পেষণের কথা বলেছেন। আমার মনে হয়েছিল জার্মানীর কর ব্যবস্থার সাথে ধর্মহীন মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধির একটি সম্পর্ক আছে। জার্মানীতে কেউ খ্রিস্টান হিসেবে স্বীকার করলে বা চার্চের সদস্য হিসেবে ঘোষণা করলে তার বেতন হতে বাধ্যতামূলকভাবে চার্চট্যাক্স কর্তন করা হয় (আয়সীমা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে পৌঁছলে)। এ করের পরিমাণও নেহাত কম নয়। আবার কেউ যদি ঘোষণা দিয়ে চার্চের সদস্যপদ ত্যাগ করেন তাহলে তার বেতন হতে চার্চট্যাক্স কর্তন করা হয় না। আমি কয়েকজন পাস্তর ও বিশপের কাছে এ প্রশ্ন রেখেছিলাম। তারা অস্বীকার না করে বলেছেন, এটি একটি কারণ হতে পারে। তাই কেউ ঘোষণা দিয়ে চার্চের সদস্যপদ ত্যাগ করার অর্থ এই নয় যে, ধর্মের প্রতি সে সম্পূর্ণরূপে আস্থা হারিয়েছে। আরেক শ্রেণির মানুষের দেখা পেয়েছি আমি জার্মানীতে। এরা ঈশ্বরকে অস্বীকার করে না। তবে নির্দিষ্ট কোন ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চায় না। এরা হয়তো চার্চের সদস্যও নয়। তাই বলে তাদেরকে ধর্মহীন বলা যায় না। অতএব গির্জার সমদ্যপদ ত্যাগ মানেই বিশ্বাসহীনতা নয়।
[ধর্মহীন শব্দটির নেতিবাচক দ্যোতনা আছে বাংলায়। আমি এখানে শব্দটিকে ওই অর্থে প্রয়োগ করিনি। ধর্মহীন মানে এমন ব্যক্তি যে কোন ধর্মের সাথে নিজের সম্পৃক্ততা ঘোষণা করে না। এর অর্থ এ নয় যে, অবশ্যম্ভাবীভাবে সে একজন দুঃশ্চরিত্র।]