নামায-রোযাসহ বিভিন্ন এবাদাতের সাথে সূর্য ও চাঁদের সম্পর্ক এক রকম নয়। প্রায় প্রতিটি এবাদতের সময়ের সাথে সূর্য-এর সম্পর্ক আছে, চাঁদের নয়। যেমন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়ের সাথে সূর্য-এর সম্পর্ক। সূর্য উদয়ের পূর্বে ফজরের সালাত, সূর্য ঢলে পড়ার পর জোহরের সালাত, সূর্য অস্ত যাওয়ার পর মাগরিবের নামায়।

তেমনিভাবে রোযার সময়ের সাথেও সূর্য-এর সম্পর্ক রয়েছে। সূর্যাস্তের পর এফতার করতে হয়, সূর্য ওঠার কিছু সময় আগে পূর্ব দিগন্তে সাদা রেখা ছড়িয়ে পড়ে। তার আগে সাহরী শেষ করতে হয়। উসূলে ফিকহ-এর একটি মুলনীতি হতে এবাদতের সময়ের সাথে সূর্য-এর সম্পর্ক পরিস্কার অনুধাবন করা যায়। ‘আমর’ বা নির্দেশ-এর কারণে কোন এবাদত বারবার করা অপরিহার্য হয় না (الأمر لا يوجب التكرار)। সে হিসেবে একবার নামায আদায় করলে الأمر এর নির্দেশ প্রতিপালিত হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হয় না। আমাদেরকে দিনে পাঁচবার সালাত আদায় করতে হয়। এর কারণ হল এবাদতের সময়ের পুনরাবৃত্তি। সালাত আদায়ের জন্য সময় নির্ধারিত করা আছে। ঐ সময় যতবার আসবে, ততবার সালাত আদায় করতে হবে। রোযা আদায় করতে হয় সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। বারবার সুবহে সাদিক হয় বলে বারবার রোযা আদায় করতে হয়। আমরা জানি, প্রভাত, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, সুবহে সাদিক প্রভৃতি নির্ভর করে সূর্য-এর চারিদিকে পৃথিবীর পরিভ্রমণের কারণে। সেজন্য সকল এবাদত স্খানীয় সময় অনুসারে পালন করতে হয়।
চাঁদের সাথে এবাদত পালনের সুনির্দিষ্ট সময়ের সম্পর্ক নাই। আরবী ক্যালেন্ডার চন্দ্রনির্ভর। সেজন্য আরবী মাসের সূচনা জানতে নবচন্দ্রের উদয় পর্যবেক্ষণ করতে হয়। চাঁদ ওঠার সাথে সাথে আরবী মাস শুরু হয়। যেমন চাঁদ ওঠার সাথে সাথে রমাদান শুরু হয়ে গেল। তারপর রোযা পালনের সাথে চাঁদের আর কোন সম্পর্ক নাই। এবাদত পালনের সময়ের সাথে চাঁদ ও সূর্য-এর সম্পর্কের এ বৈপরীত্য না বুঝার কারণে অনেকে বলে বসেন, ‘যারা সৌদির সাথে রোযা রাখতে বলেন, তারা সৌদির সাথে নামায পড়ে না কেন?’ আশাকরি এ বিবরণ তাঁদের ভাসা ধারণা দূর হবে।
পৃথিবী একটি, এর চাঁদও একটি। এটির জন্ম এবং প্রথম দর্শনও হয় একবার। আর তখনই শুরু হয় মাস।সেজন্য কোথাও চাঁদ ওঠার খবর পাওয়ার সাথে সাথে রমাদান শুরু হয়ে যাবে। তারপর সকলে নিজ নিজ স্থানীয় সময় অনুসারে রোযা পালন করবে। এটি হানাফি, মালিকী ও হাম্বলি মাযহাবের অভিমত: اختلاف المطالع غير معتبر، فيلزم أهل المشرق برؤية أهل المغرب على ظاهر المذهب، وعليه الفتوى وعليه أكثر المشايخ.
দুররুল মুখতার