এ বছর (১৪৩৯ হিজরী) যেমন একাধিক তারিখে রমাদান শুরু হয়েছে, তেমনি একাধিক তারিখে শাওয়াল শুরু হবে।
১৪৩৯ হিজরীর রমাদান সবার আগে শুরু হয়েছিল তুরস্কে ১৬ মে ২০১৮ বুধবার।

ইউরোপের কয়েকটি দেশের মুসলমানরাও তুরস্কের অনুসরণে ওইদিন রোযা শুরু করেছিল। তুরস্কে (এবং এর অনুসারী দেশগুলোতে) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ১৫ জুন ২০১৮ শুক্রবারে, অর্থাৎ তারা ত্রিশ রোযা পূরণ করবে। এটি পূর্নির্ধারিত। রোযা শুরু বা ঊদ উদযাপনে তুর্কিরা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে না। বরং পূর্ব নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, যেমন সারা দুনিয়ায় খ্রিস্টিয় সনের ক্ষেত্রে করা হয়। এ খবরে উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। ইসলামী/আরবী পঞ্জিকায় পূর্ব-নির্ধারিত হিসাব অনুসরণ করা সম্ভব।

বাকি দেশগুলোর মাঝে বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য সকল মুসলিম দেশে রোযা শুরু হয়েছিল ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা করছি।
সৌদি আরবেও রোযা শুরু হয়েছিল ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার। ১৪ জুন ২০১৮ সন্ধ্যায় সৌদি আরবে (এবং তৎপশ্চিমের দেশগুলোতে) শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাবে, এমন সম্ভাবনা প্রবল। অর্থাৎ সৌদি আরব (ও তাঁর অনুসারী দেশগুলোতে) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ১৫ জুন ২০১৮ শুক্রবারে। তারা মানে সৌদি আরব ও তুরস্কে একই দিনে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে, যদিও তুর্কিরা রোযা শুরু করেছিল একদিন আগে। যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্কে রোযা হবে ত্রিশটি, সৌদি আরবে হবে ঊনত্রিশটি।
উপমহাদেশে ১৪ জুন সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নেই। এ অঞ্চলে চাঁদ দেখার জন্য অপটিক্যাল এইড ব্যবহার করা হয় না। আর তাই বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানে চাঁদ দেখা যাবে ১৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায়, অর্থাৎ তিনটি দেশেই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ১৬ জুন ২০১৮ শনিবার। এক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানে ত্রিশ রোযা পূর্ণ হবে। বাংলাদেশে যারা বালিতে নাক গুজে ছিল তাদের রোযা হবে ঊনত্রিশটি। তার মানে হল, রোযা শুরুর ক্ষেত্রে সারা পৃথিবী হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান গ্রহণ করলেও (???!!!) ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে তেমনটি করতে পারবে না।

উপরের হিসাবটি স্থানীয় চন্দ্রদর্শনের আলোকে দেয়া হল। দেখুন- একই দিনে যারা ঈদ উদযাপন করছে তাদের রোযার সংখ্যা সমান হচ্ছে না। [১৫ জুন ঈদ: তুরস্কের রোযা ৩০টি, সৌদির ২৯। ১৬ জুন ঈদ: ভারত-পাকিস্তানের রোযা ৩০, বাংলাদেশের ২৯টি]। যোগাযোগের উন্নতির এই যুগে এটি একটি ভৌতিক ব্যাপার! স্থানীয় চন্দ্রদর্শনের ওপর যতদিন গুরুত্ব দেয়া হবে ততদিন এই ধরণের বালসুলভ কাণ্ড ঘটতেই থাকবে।